শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্প্রতি গেলে এমন অভিব্যক্তি জানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের সীমানাঘেঁষেই পৌরসভার ময়লার ভাগাড়, যা বিদ্যালয়ের মূল ভবন থেকে মাত্র দু-তিন শ গজ দূরে। বাতাস এলে দুর্গন্ধের মাত্রা এতটা বাড়ে যে শ্রেণিকক্ষে এমনকি বিদ্যালয় মাঠে থাকাও দায় হয়ে পড়ে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার প্রসিদ্ধ এ বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এক হাজারের ওপর।
এদিকে ময়লার ভাগাড়টি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। ওই সড়কটি জেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বিধায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। চলার পথে নাক চেপে ধরেও তাঁরা এ দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পান না। ভাগাড়ের আশপাশের অন্তত এক-দু শ গজ এলাকায় দুর্গন্ধটা বেশ তীব্র অনুভূত হয়। যার জানা থাকা সে অনেকে দূরে থাকতেই শ্বাস বন্ধ করে নেন!
সরজমিনে গিয়ে গন্ধের তীব্রতা অনুভব করা যায়। পৌর এলাকার হরিজন কলোনির ঠিক পাশ ধরে যে পথটি জেলা সদরে গেছে সেটি ধরে যাওয়ার সময় উৎকট গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। এ প্রতিবেদককে বহনকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো কারণে যদি ট্রেইনের লাইগ্যা রেলগেইট (আখাউড়া-সিলেট পথ) বন্দ থাকতো তাইলে বুজতেন গন্দডা কিতা। ‘ রেলগেইটের ঠিক পাশেই অন্তত ১০-১২ শতাংশ জায়গাজুড়ে নিয়মিত ময়লা ফেলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষে উল্লেখিত স্থানে ময়লা ফেলা হয়। সার্ভ বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে পৌরসভা। গত কয়েকমাস ধরে পৌরসভার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার কার্যক্রম শুরু করার পর এর পরিমাণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ওই জায়গাতে ছোট ছোট ভ্যানে করে আট-দশ বার ময়লা ফেলা হয় বলে ধারণা পাওয়া যায়। শুরুর দিকে ছোট একটি জায়গাজুড়ে ময়লা ফেলা হলেও এখন অনেকটা বড় জায়গাজুড়ে ময়লা ফেলা হচ্ছে।
কথা হলে রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম বলে, ‘ময়লার দুর্গন্ধের কারণে ক্লাস করা দায় হয়ে পড়ে। আমি নিজেও একদিন বমি করে দিয়েছি। আসার পথেও এ ময়লার গন্ধ সহ্য করে আসতে হয়। ‘
কথা বলার সময় জড়ো হয় রাকিবুল ইসলাম সিয়াম. খায়রুল ইসলাম, রৌশাদ আহমেদ মৃদুল, নাজিবা সুলতানা, সিনথিয়া আফরোজ, তাসনিহা হক মহিমাসহ আরো কয়েক শিক্ষার্থী। ময়লার ভাগাড় বিদ্যালয়ের পাশ থেকে সরানোর দাবি তুলেছে তারা। ওই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ময়লার কারণে তারা না পারে ক্লাস করতে না পারে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতে। এ ছাড়া দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতেও চায় না বলে জানায় তারা।